ভাইভা পরীক্ষার প্রস্তুতি - ভাইবার জন্য পোশাক? ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার কৌশল

ভাইভা বলতে চাকরি নিশ্চিত হওয়ার আগে প্রার্থীর সাথে এক ধরনের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। কিছু কিছু কোম্পানি তাদের প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য বিভিন্ন ধরনের মৌখিক প্রশ্ন এবং প্রার্থীর সাথে সাক্ষাৎকার করে তার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা গ্রহণ করে। 

ভাইভা পরীক্ষার প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত


ভাইভা পরীক্ষার প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত?

রিটেন এবং এমসিকিউ পরীক্ষার পরে আমাদের সবারই ভাইভা নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তা হয়। আজ আমরা জানবো ভাইভা পরীক্ষার টিপস এবং ভাইভা পরীক্ষার জন্য কিভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়? ভাইভার জন্য আলাদা করে কিছু পড়তে হয় না আমরা রিটেনের জন্য যে প্রিপারেশন নেই তা দিয়েই যথেষ্ট। আর যতটুকু প্রয়োজন তা নিয়ে আমরা আলোচনা করব এখানে। ভাইভা বিষয়টি খুব কঠিন কিছু নয় এ বিষয়টি যে যেভাবে নিবেন ঠিক সেভাবেই কাজ করে। আপনি নরমাল থাকলে ভাইভা অনেক সহজ হবে কিন্তু আপনি যদি ভাইবা নিয়ে দুশ্চিন্তা করেন তাহলে আপনার ভয়ের কারণে অটোমেটিক্যালি খারাপ হবে। কেননা ভাইবা বোর্ডে সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে হলে আপনাকে শান্ত থেকে মূল প্রশ্নের দিকে ফোকাস দিতে হবে। ভাইভা বোর্ডে যেসব বোর্ড সদস্যরা থাকেন তাদের প্রতি দৃষ্টি রেখে আপনাকে উত্তর দিতে হবে। এতে করে বোর্ড সদস্যরা আপনার প্রতি সদয় দৃষ্টিতে তাকাবেন। ভাইবাতে সব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এমনটা নয় যে আপনি যতটুকু পারেন ততটুকুই খুব সুন্দর করে উপস্থাপন করতে পারলেই বোর্ড সদস্যরা আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবেন। ভাইবা বোর্ডে নিজেকে খুব চালাক বা বোকাভাবে প্রকাশ করবেন না। বেশি বেশি উত্তর দিতে যাবেন না নিজের থেকে। আপনি যত বেশি উত্তর দিয়ে নিজেকে প্রকাশ করতে চেষ্টা করবেন তত বেশি বোর্ড সদস্যরা আপনাকে প্যাচের মধ্যে ফেলবে তাই ভালো হবে আপনাকে যেভাবে সহজ প্রশ্ন করেন আপনি ঠিক সেভাবেই সঠিক প্রশ্নের উত্তর দিবেন। আপনি যে পরীক্ষায় পাশ করে ভাইবাতে এসেছেন সেই পরীক্ষার প্রশ্নটি ভালোভাবে ঘেটে আসবেন কেননা ভাইবা বোর্ডে পুনরায় সেখান থেকে প্রশ্ন করতে পারেন বোর্ড সদস্যরা। আপনি যে বিষয়ে অথব যে বিভাগ থেকে পড়াশোনা করেছেন সেই বিভাগের বেসিক প্রশ্ন জানতে হবে। এছাড়াও আপনার বিভাগ, জেলা, উপজেলা এবং আপনার জেলার বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের নাম পরিচিতি জেনে আসবেন।

ভাইভা পরীক্ষার জন্য কি ধরনের পোশাক পরিধান করতে হবে?

ভাইভার জন্য পোশাক নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। পোশাকের কারণেই আপনাকে যোগ্য অথবা অযোগ্য বিবেচনা করতে পারে। তাই আপনার উচিত সুন্দর, সাবলীল, মার্জিত পোশাক পড়ে ভাইবা বোর্ডে উপস্থিত হওয়া। কেননা প্রথমে দর্শন হয় তারপর গুন বিচার করা হয়। আপনি যদি প্রথম দর্শনেই খারাপ পোশাকের কারণে বাদ পড়েন এটা আসলে কাম্য নয় এজন্য আপনার উচিত ভাইবা বোর্ডের জন্য সুন্দর পোশাক চুজ করা। ভাইবা বোর্ডে ফরমাল ড্রেস বলতে আমরা বুঝি সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট, কালো সু, কালো বেল্ট পরা। কিন্তু কারো যদি এমন ধরনের পোশাক না থাকে যেমন কালো প্যান্ট, সাদা শার্ট, কালো সু তাহলে তারা কিভাবে ভাইভা বোর্ডে উপস্থিত থাকবে এটাও একটি প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়, আমি তাদের বলছি সাদা শার্ট পড়ে যেতে হবে এমনটা নয় আপনি চাইলে যে কোন ফুল হাতার শার্ট এবং যে কোন কালারের প্যান্ট পড়ে ভাইবাতে উপস্থিত হতে পারেন কিন্তু সেটি যেন দেখতে অত্যন্ত নমনীয় সুশীল সুন্দর পোশাক হয়। তাই বলে জিন্স অথবা এক কালারের রংচং বা চোখে ধরার মতন পোশাক পড়া সম্পূর্ণ নিষেধ। কোন স্টাইলিশ পোশাক ভাইবার জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। সাবলীল পোশাকে ভাইবাতে উপস্থিত হওয়া যায়। ভাইবাতে উপস্থিত হওয়ার আগে প্রপার সেভ করে নিতে হবে মাথার চুল সুন্দর করে কেটে নিতে হবে এক কথায় নিট অ্যান্ড ক্লিন থাকতে হবে আর যেসব ভাইয়েরা দাঁড়িয রাখবেন ভাইবার আগের দিন দাঁড়ির সৌন্দর্য রক্ষায় একটু ছেটে দাঁড়ির আশে পাশের ময়লা পরিষ্কার করে নিবেন।

ভাইভা পরীক্ষার আগে করনীয় কি?

ভাইভা পরীক্ষা কিভাবে নেয়া হয় ভাইবার আগে মানসিক এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা খুবই জরুরী একটা বিষয়। আপনি যদি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তাহলে আপনার ভাইবা মোটেও ভালো হবে না। মানুষের সুস্থতাই আগে আপনি সুস্থ থাকলে সুন্দরভাবে ভাইবা দিতে পারবেন। আর ভাইবার জন্য অতিরিক্ত কোন চাপ নিবেন না ভাইবা আহামরি কিছুই না। চাকরির পরীক্ষার জন্য যেসব প্রিপারেশন নিয়েছেন সেসব আবার নতুন করে রিভিশন করুন তাহলেই অনেকটা সফল হবেন। আপনি আপনার জেলার সম্পর্কিত তথ্য, মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিবুর রহমান, বিভিন্ন কবি সাহিত্যিকের নাম, পদবি, সাহিত্য, ইংরেজি প্রবাদ বাংলা সাধারণ জ্ঞান, কম্পিউটার জ্ঞান এসব জেনে যাবেন। ভাইবা বোর্ডে এখান থেকে এমন ছোট প্রশ্ন করে থাকেন। ভাই যাওয়ার আগে আপনাকে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র দেখে শুনে নিতে হবে যেমন ধরুন সব ধরনের একাডেমিক সার্টিফিকেট, পরীক্ষার এডমিট কার্ড, আবেদন পত্র, জাতীয় পরিচয় পত্র, সত্যায়িত কাগজপত্র,কলম, একটা ঘড়ি ইত্যাদি। ভাইবা বোর্ডে কোন প্রশ্নের উত্তর তাড়াহুড়ো করে দিতে যাবেন না। এতে দেখা যাবে প্রশ্নের উত্তর ভুল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আরেকটি বিষয় প্রশ্নের কোন উত্তর নিয়ে কনফিউশন থাকলে ভুল উত্তর দেয়া যাবে না যেটি জানবেন না সরাসরি বলে দিবেন সরি স্যার বলতে পারছি না অথবা এই মুহূর্তে মনে নেই স্যার। কখনো বলবেন না যে স্যার এটা হতে পারে, ওটা হতে পারে, এমন করে হবে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় এমন আচরণ কখনোই করতে যাবেন না। এসব নিয়ম-কানুন মেনে চললেই আপনার ভাইবা অনেক সুন্দর হবে।

ভাইভা পরীক্ষায় কি ধরণের প্রশ্ন করে?

ভাইভা পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তর সাধারণত খুব নরমাল প্রশ্ন করে। কিন্তু আমরা অতিরিক্ত ভয় এবং দুশ্চিন্তার কারণে এই নরমাল প্রশ্নগুলোকে জটিল করে ফেলি। নিজে উত্তেজিত না হয়ে নরমাল থাকলে এসব প্রশ্নের উত্তর খুব সহজেই দেয়া সম্ভব। ভাইভা বোর্ডে যেসব প্রশ্ন করা হয় তার নমুনা কিছু দেয়া হলো। সাধারণত আপনাকে আপনার চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন সম্পর্কে দু চারটা প্রশ্ন করবে। এরপর আপনার নিজের নাম, নিজের নামের অর্থ, নিজ জেলা, নিজ জেলার সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ, নিজ জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে, আপনি কোন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন সে বিষয়ে, ভাইবা বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার তারিখ বাংলা এবং ইংরেজি, আপনি যে অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়ে ভাইবা দিতে যাবেন সেই অফিস সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে যাবেন, সাধারণ গণিতের কিছু সূত্র, ইংরেজি থেকে কিছু ট্রান্সলেট, প্রবাদ বাক্য, কবি সাহিত্যিকের ছদ্মনাম, কম্পিউটার সম্পর্কিত সাধারণ জ্ঞান এবং যেদিন ভাইভা হবে সেদিনের খবরে কাগজ দেখে যেতে পারেন। এসব বিষয় জেনে গেলেই যথেষ্ট।

মোটামুটি এই বিষয়গুলো সম্পর্কে জেনে গেলে ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। অনেকেই ভাইভা পরীক্ষা দিতে গিয়ে অনেক উত্তেজিত হয়ে যায়, যার ফলে বিচারকদের সঠিক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনা। তাই যতটুকু সম্ভব নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন। বিচারকরা যে প্রশ্ন করবে শুধু তার উত্তর দিবেন। অনেকে নিজেকে এডভান্স প্রমাণ করতে গিয়ে অহেতুক বেশি কথার উত্তর দিয়ে থাকেন এমন হলে বিচারকরা আপনার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে উঠবে। পরবর্তী আলোচনা করব ভাইভা পরীক্ষায় কি কি ধরনের প্রশ্ন আসে? সে পর্যন্ত সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এই কামনায়। ধন্যবাদ

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url